প্রতিষ্ঠানিক পরিচিতি

আরবি ভাষা স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ হতে কোরআন ও সুন্নাহর ভাষা রূপে নির্বাচিত হয়েছে। সেহেতু আরবি ভাষার সাধারণ জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব। কেননা আমার অল্লাহ আমার দুনিয়া-আখেরাতের শান্তি ও মুক্তির জন্য কী নাযিল করেছেন এবং আমার নবী আমার জীবন সমস্যার সমাধানের জন্য কী রেখে গেছেন তা তরজমার মাধ্যম ছাড়া সরাসরি সে ভাষায় বোঝার চেষ্টা করাই তো হবে আমার আল্লাহ-প্রেম ও নবী-প্রেমের স্বতঃস্ফূর্ত দাবি। তবে কোরআন-সুন্নাহ ও শরীয়তের সুবিজ্ঞ ও সুযোগ্য আলেম/আলেমা হওয়ার জন্য আরবি ভাষায় পূর্ণ বুৎপত্তি অর্জন করা অপরিহার্য। ভাষার সাধারণ জ্ঞান এ ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই যারা দ্বীন ও শরীয়তের আলেম হবে এবং কোরআন-সুন্নাহ ও শরীয়তের ইলমের “ধারক, বাহক ও রক্ষক” হবে তাদের জন্য আরবী ভাষার সাধারণ জ্ঞান অর্জনের পর ভাষার শাস্ত্রীয় ও তত্ত্বগত জ্ঞান অর্জন করা অপরিহার্য কর্তব্য। এ জন্য প্রয়োজন যুগোপযোগী ও বিজ্ঞানসম্মত এমন এক পাঠ পদ্ধতী অনুসরণ করা যা শিক্ষার্থীকে অতি সহজে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে।

এ লক্ষ্যে তিন যুগ পূর্বে المنهج المدني বা “মাদানী নেসাব” এর শুভ সূচনা হয়। আলহামদুলিল্লাহ! এই দীর্ঘ কয়েক যুগের পঠন-গঠন ও চিন্তা-গবেষণার ফলে অর্জিত অভিজ্ঞতার আলোকে মাদারেসে কওমীয়ার শিক্ষা ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করেছে। বর্তমানে যার উপকারিতা ও ফলপ্রসূতা ব্যাপকভাবে বিস্তৃত ও সমাদৃত।

আমরা যে মহান নেসাবে তা’লীমের ক্ষুদ্র ফসল সেই দরসে নেজামীর “প্রাণ ও প্রেরণা” স্বযত্নে সংরক্ষণ পূর্বক শুধু পদ্ধতিগত সংস্কার সাধনই হলো “মাদানী নেসাব” এর উদ্দেশ্য। যেমন, বর্তমান দরসে নেজামীর মৌলিক পাঠ্যসূচি অক্ষুণ্ণ রেখে শুধু “সময় সংকোচন ও মান উন্নয়ন”। “প্রত্যেক শাস্ত্রের প্রথম কিতাব মাতৃভাষায় হওয়া বাঞ্ছনীয়” এ মৌলিক চিন্তাকে সামনে রেখে প্রাথমিক স্তরে মাতৃভাষায় এবং সহজতর পদ্ধতিতে পাঠদান। সেইসাথে প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যাকরণের প্রত্যক্ষ প্রয়োগ ছাড়া শুধু ব্যবহারীক উপায়ে ভাষার সাধারণ জ্ঞান অর্জন করা, তারপর ব্যাকরণের মাধ্যমে ভাষাজ্ঞান সুসংহত করা। যা আমাদের আকাবিরগনের সর্বস্বীকৃত মূলনীতি এবং ভাষা শিক্ষার সবচে’ কার্যকর ও আধুনিকতম পদ্ধতি। সুতরাং “মাদানী নেসাব” তথাকথিত “সর্টকোর্স” জাতীয় কোন পদার্থ নয়। উল্লেখিত পদ্ধতি অনুসরণের ফলে আল্লাহর রহমতে এক বছরের মেহনতে তালিবে ইলমের মাঝে এই পরিমাণ যোগ্যতা অর্জন হয় যে, কোরআন ও হাদীসের উল্লেখযোগ্য অংশের তরজমা সে নিজেই করতে পারে। মাতৃভাষা বাংলা, কোরআন ও সুন্নাহরভাষা আরবী, উলূমুল কোরআন ও সুন্নাহর ভাষা উর্দু এবং আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের ও কর্মজগতের প্রয়োজনীয় ভাষা ইংরেজি। পরিবর্তনশীল বর্তমানের মাধ্যমে গৌরবময় অতীত এবং মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যতের মাঝে সংযোগ রক্ষা করাই হলো দরসে নেজামীর মূল শিক্ষা এবং মহান আকাবিরগনের দীক্ষা আর “মাদানী নেসাবের” উদ্দেশ্য হলো এর সুরক্ষা। (আদীব হুজুর দা.বা. এর বিভিন্ন লেখা হতে সংগৃহীত)।

আলহামদুলিল্লাহ! ছুম্মা আলহামদুলিল্লাহ! এ সকল মহান লক্ষ্য-উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আল্লাহ তা’আলার মেহেরবানিতে “মাদরাসা যায়নাব বিনতে জাহাশ রা. আলইসলামিয়া” এর শিক্ষা কার্যক্রম সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১ম বর্ষ থেকে দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত এবং হিফজ, নাযেরা ও নূরানী বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে।

শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও অগ্রযাত্রায় প্রতিষ্ঠানটি ২০০০ সাল থেকে বর্তমানে ২৭তম বর্ষে পদার্পণ করতে যাচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ।

“মাদরাসা যায়নাব বিনতে জাহাশ রা. আলইসলামিয়া” এর সার্বিক উন্নতি, অগ্রগতির জন্য আপনার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন উক্ত প্রতিষ্ঠানটি ও আমাদের চেষ্টা-প্রচেষ্টা কবুল করুন এবং মাকবুল করুন। আমীন।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

​মহান আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জন

​মহান আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রাসূলের সন্তষ্টি অর্জন এবং ইহকালিন ও পরকালিন শান্তি-সফলতা ও মুক্তি লাভ।

ইলমের প্রচার প্রসার

​দ্বীন ও দ্বীনী ইলম তথা কোরআন-সুন্নাহ ও শরীয়তের ইলমের প্রচার, প্রসার ও সংরক্ষণ।

দ্বীনের দায়ী রূপে গড়ে তোলা

তালিবে ইলমদেরকে কোরআন-সুন্নাহ ও শরীয়তের ইলমের ধারক, বাহক, রক্ষক এবং দ্বীনের দায়ী রূপে গড়ে তোলা।

আখলাকে নববী অর্জন

“ইলমে নববী, আমলে নববী, আখলাকে নববী ও আফকারে নববী” অর্জনের সর্বাত্বক সাধনা।

তাজকিয়ার (আত্মশুদ্ধি) অনুশীলন

​তা’লীম-তাআল্লুম, দাওয়াত-খিদমত ও তাজকিয়ার (আত্মশুদ্ধি) অনুশীলন।

​মহান আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জন

​মহান আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রাসূলের সন্তষ্টি অর্জন এবং ইহকালিন ও পরকালিন শান্তি-সফলতা ও মুক্তি লাভ।

আমাদের লক্ষ্য শুধু শিক্ষাদান নয়; বরং এমন প্রজন্ম গড়ে তোলা, যারা কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে নিজেকে গড়ে তুলবে এবং সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যোগ্য হয়ে উঠবে। দ্বীনী ও সাধারন শিক্ষার সমন্বয়ই তাদের এই পথ সুগম করবে।

founder principal

মুফতী মুহাম্মদ আব্দুস সালাম

প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক

আমাদের শিক্ষা বিভাগসমূহ

“মাদরাসা যায়নাব বিনতে জাহাশ রা. আলইসলামিয়া”র প্রতিটি বিভাগের পাঠ্যক্রম বয়স, যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। নিচে প্রতিটি বিভাগ - পরিচিতি তুলে ধরা হল।

১.

মাদানী নেসাব ১ম বর্ষ থেকে দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত।

২.

শিক্ষাকালঃ ৩ বছর। বয়স সীমাঃ ৮ থেকে ১১ বছর।

৩.

শিক্ষাকাল: ১ বছর, বয়স সীমা: ৭-৮ বছর।

৪.

শিক্ষাকাল: ১ বছর, বয়স সীমা: ৬-৭ বছর।

৫.

শিক্ষাকাল: ২ বছর, বয়স সীমা: ৪-৬ বছর।

৬.

১ম শ্রেণী থেকে ১০ম (এস.এস.সি/দাখিল) শ্রেণী পর্যন্ত।

৭.

স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কোরআন শিক্ষা বিভাগ।

৮.

জেনারেল পড়ুয়া ও বয়স্কদের জন্য রামাযান কেন্দ্রিক বিশেষ বিভাগ।

09

আজই ভর্তি করুন আপনার সন্তান কে!

“মাদরাসা যায়নাব বিনতে জাহাশ রা. আলইসলামিয়া” একটি যুগোপযোগী আদর্শ দ্বীনী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান